নিজস্ব প্রতিবেদক | ১ মে ২০২৬
ওয়াশিংটন ও তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ থেকে যুদ্ধের কালো মেঘ সরছে না। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিস্ফোরক মন্তব্যে জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আবারও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি পুনরায় সামরিক অভিযানের প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি বলেন, “ইরানের সঙ্গে আবার যুদ্ধ শুরু করার প্রয়োজন হতে পারে। এ সংক্রান্ত আলোচনার বিষয়ে আমি এবং হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া আর কেউ কিছু জানেন না।” জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণার পর এবার ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সম্ভবত ইতালি ও স্পেন থেকেও তিনি সেনা সরিয়ে নেবেন। তবে ইরান ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিলে তাঁর কোনো আপত্তি নেই বলেও জানান তিনি।
ইরানে নতুন হামলার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার একপর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১২৬ ডলার ছাড়িয়ে যায়। দিনের শেষভাগে তা ১১৪ ডলারে নামলেও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধের স্থায়িত্ব বাড়লে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব হয়ে পড়বে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে তেহরানের পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় বিকট শব্দে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হতে শোনা গেছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম ও মেহর জানিয়েছে, ক্ষুদ্রাকৃতির ড্রোন ও নজরদারি বিমান প্রতিহত করতেই এই তৎপরতা। এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হুশিয়ারি দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তার জবাব হবে ‘দীর্ঘ ও বেদনাদায়ক’।
ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, এরিক ট্রাম্প ও ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র সংশ্লিষ্ট ড্রোন কোম্পানি ‘পাওয়ারআসে’র কাছ থেকে ড্রোন কিনবে মার্কিন বিমানবাহিনী। এই ড্রোনগুলো মূলত শত্রুপক্ষের হামলা প্রতিরোধে সক্ষম। পাওয়ারআসের প্রতিষ্ঠাতা ব্রেট ভেলিকোভিচ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত করতেই এই সস্তা কিন্তু শক্তিশালী ড্রোনের সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে।
বৈরুতে মার্কিন দূতাবাস লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে সরাসরি বৈঠকের আহ্বান জানালেও তা ভেস্তে গেছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট এই মুহূর্তে কোনো আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। লেবানন সরকার স্পষ্ট করেছে যে, তাদের ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি বাহিনী পূর্ণ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত কোনো চুক্তিতে সই করা হবে না।
উপসংহার: মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বর্তমানে এমন এক পর্যায়ে যেখানে যেকোনো মুহূর্তের ভুল সিদ্ধান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের জন্ম দিতে পারে। একদিকে ট্রাম্পের সামরিক ব্রিফিং এবং অন্যদিকে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয়তা—সব মিলিয়ে মে মাসের শুরুতেই বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তা এক চরম অস্থিরতার মধ্যে নিপতিত হয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি, আল-জাজিরা, রয়টার্স ও তাসনিম নিউজ এজেন্সি। প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সম্পাদনায়: নিউজ ডেস্ক
বিস্তারিত তথ্যের জন্য:
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |